রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন
একুশের কণ্ঠ অনলাইন:: সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে সরকারকে ৭ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়।
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন ন্যাম ভবনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়কের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে ফেরার পর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীরা তার কথায় আস্থা রেখে আগামী ৭ মে পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেছে। তাদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি করা না হয়, সে ব্যাপারেও সরকার উদ্যোগ নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান জানান, বৈঠকে চারটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, এ মাসের মধ্যে কোটা বাতিলের বিষয়ে আন্দোলনকারীদের আলটিমেটাম, দ্বিতীয়ত, আন্দোলনকারীদের হয়রানি না করা, তৃতীয়ত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিনকে চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত বাতিল এবং চতুর্থত, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার।
আন্দোলনকারীদের এসব দাবির বিষয়ে বৈঠকে জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে। তিনি ৩০ এপ্রিল দেশে ফিরবেন। এ জন্য এ মাসের মধ্যে কোটা বাতিল-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ ছাড়া অন্য তিন দাবির বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সরকারকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ফারুক হাসান।
কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলন করছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। আন্দোলন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। তবে এখনও তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়নি।